যমুনা ও কড়তোয়া নদীর মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ এবং সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শাহজাদপুর ভ্রমণের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আনন্দ ভ্রমণ ও পিকনিক সম্পন্ন করেছে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ৫ নম্বর চামারী ইউনিয়ন পরিষদ।
২৫/৭/২০২৬ ইং তারিখ শনিবার সকালে চামারী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে চেয়ারম্যান,ইউপি সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, গ্রাম পুলিশ সদস্য এবং ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তাদের নিয়ে নৌকা যোগে শাহজাদপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হয়। বিলদহর বাজার ঘাট থেকে যমুনা ও কড়তোয়া নদীপথে ভ্রমণের সময় সবাই নদীর অপরূপ সৌন্দর্য, নির্মল বাতাস এবং গ্রামীণ প্রকৃতির মনোরম পরিবেশ উপভোগ করেন।
শাহজাদপুরে পৌঁছে ভ্রমণকারী দলটি প্রথমে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি পরিদর্শন করেন। পরে নদীর তীরে মনোরম পরিবেশে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। এ সময় গান, আড্ডা, হাসি-আনন্দ এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজনে অংশ নিয়ে সবাই দিনটি উপভোগ করেন। দীর্ঘদিন একসঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের জন্য এ আয়োজন ছিল স্মৃতিময় ও আবেগঘন।
চামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান স্বপন মোল্লা বলেন,“দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর আমরা একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। মেয়াদের শেষ সময়ে এসে সহকর্মীদের নিয়ে কিছুটা আনন্দ ভাগাভাগি করতেই এই পিকনিকের আয়োজন। সবার সঙ্গে কাটানো এই সুন্দর মুহূর্তগুলো আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাবুর আলী বলেন,“এই চেয়ারম্যান, সদস্য ও স্টাফদের সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর কাজ করেছি। কর্মব্যস্ততার মধ্যেও আমরা একটি পরিবারের মতো ছিলাম। ভবিষ্যতে নতুনদের সঙ্গে কাজ করলেও বর্তমান সহকর্মীদের স্মৃতি সবসময় মনে থাকবে।”
৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফুল সরদার বলেন,“আমাদের বর্তমান পরিষদের মেয়াদ প্রায় শেষ। তাই সবাইকে নিয়ে একটি স্মরণীয় আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। নদীপথে এই ভ্রমণ আমাদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য,সম্প্রীতি ও আন্তরিকতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে।”
পিকনিকে অংশ নেওয়া গ্রাম পুলিশ সদস্যরাও জানান,নৌকায় নদীপথে ভ্রমণ,প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ এবং শাহজাদপুরের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা তাদের কাছে অত্যন্ত আনন্দদায়ক ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
দিনব্যাপী আনন্দঘন আয়োজন শেষে বিকেলে একই নৌপথে চামারী ইউনিয়ন পরিষদে ফিরে আসেন অংশগ্রহণকারীরা। পুরো আয়োজনটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও কর্মসম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।