জামালপুর সদরের শ্রীপুর ইউনিয়নের স্থানীয় মাটিখোলা গ্রামে মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলে তথা কথিত অপহৃত সাব্বির (১৩) অবশেষে বাড়িতে ফিরেছে। এ খবরে এলাকায় উৎসুক জনতার জনস্রোত বেড়েই চলেছে।
​জানা গেছে, ৩ মাস ১০ দিন পূর্বে সাব্বির তার মাদ্রাসা থেকে প্রতিবেশীদের দ্বারা অপহরণ হয়েছে বলে দাবি করে তার মা সখিনা বাদী হয়ে জামালপুর বিজ্ঞ নারী ও শিশু কোর্টে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ৫৯/২০২৬)। মামলা সূত্রে প্রকাশ, প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে ও চরম শিক্ষা দিতে কতিপয় কুচক্রীর পরামর্শে ৬ জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলেন— সুজনের ছেলে রিফাদ (২২), হাসেন আলীর ছেলে সুজন (৪৫), খোকনের ছেলে আঃ আলীম (২২), সাইদুরের ছেলে স্বপন (২৩), হাসেনের ছেলে হান্নান (৪০) ও কদ্দুস ওরফে কালুর ছেলে নাইজুর রহমান প্রমুখ।
​মিথ্যা অপহরণ মামলা দায়েরের পর আসামিরা আতঙ্কে ও ভয়ে পালিয়ে বেড়ালেও সাব্বির প্রকৃতপক্ষে ঢাকায় একটি সংস্থায় চাকরি করছিল। সেখানে অবস্থানকালে বাবা-মায়ের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ চলত। সাব্বির একাধিকবার বাড়িতে আসতে চাইলেও তার মা তাকে বারবার আসতে নিষেধ করেন। মা তাকে সাফ জানিয়ে দেন— আসামীদের ফাঁসাতে হলে তাকে কিছুদিন বাড়ি থেকে দূরেই থাকতে হবে।
​তবে মায়ের এমন বারণ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকা সাব্বির কাউকে কিছু না জানিয়ে সম্প্রতি কয়েক মাসের জমানো বেতন নিয়ে সোজা বাড়িতে চলে আসে। অপহৃত ছেলে সশরীরে বাড়িতে ফেরার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়।
​ঘটনার আসল সত্যতা ও গোমর ফাঁস হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দরিদ্র ও নিরীহ মানুষকে এভাবে মিথ্যা অপহরণ মামলায় ফাঁসানোর কোনো মানেই হয় না।”
​মামলার অন্যতম আসামি সুজন বলেন, “আমাদের হয়রানি ও অন্যায়ভাবে ফাঁসাতে এই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। সাব্বির এতদিন ঢাকায় চাকরি করে এখন দিব্যি বাড়িতে অবস্থান করছে।”
​অন্যদিকে মামলার বাদী সখিনা বেগম এখনো দাবি করছেন, “আমার ছেলে এতদিন ওদের দ্বারাই নিখোঁজ ছিল।”
​বর্তমানে মিথ্যা মামলায় ফেঁসে যাওয়া নিরীহ আসামিরা ও স্থানীয় সচেতন মহল ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও এর উপযুক্ত পরিত্রাণ দাবি করছেন।