দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে অন্যের সহায়তা ছাড়া চলাফেরা করতে পারতেন না নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দোহলপাড়া গ্রামের সাবিহা বেগম। অর্থাভাবে একটি হুইলচেয়ার কেনার সামর্থ্যও ছিল না তাঁর। অবশেষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি হুইলচেয়ার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। হুইলচেয়ারে বসেই অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “আল্লাহ ওনার ভালো করুক। এই চেয়ারখান পেয়ে এখন ভালোভাবে চলতে পারব। অনেক দিনের কষ্ট দূর হবে।”
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে নীলফামারীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান ২২ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাঝে হুইলচেয়ার, ৯ জনের মাঝে নগদ অনুদানের চেক এবং ১১ জন অসচ্ছল প্রশিক্ষিত নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডিমলা উপজেলা আমির মাওলানা মজিবুর রহমান, ডিমলা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু তালেবসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, এনজিও প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে জেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সরকারি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
হুইলচেয়ার পেয়ে সাবিহা বেগমের চোখের জল আর মুখের হাসি উপস্থিত সবার মন ছুঁয়ে যায়। দীর্ঘদিনের কষ্টের পর একটি হুইলচেয়ার তাঁর কাছে শুধু চলাচলের একটি মাধ্যম নয়, বরং নতুন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার এক নতুন আশার প্রতীক হয়ে ওঠে।
এর আগে জেলা প্রশাসক ডিমলা সদর ইউনিয়নের রামডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুলব্যাগ, পানির বোতল, টিফিন বক্স, বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন। পাশাপাশি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি জলপাই গাছের চারা রোপণ করেন।
পরে তিনি সদর ইউনিয়নের মাঝিপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করে স্বাস্থ্যসেবার খোঁজখবর নেন এবং ক্লিনিকে একটি রক্তচাপ (বিপি) মাপার মেশিন, ওজন মাপার মেশিন ও ডায়াবেটিস পরীক্ষার মেশিন প্রদান করেন।
এরপর সদর ইউনিয়নের কুটিপাড়া গ্রামে উত্তম কৃষি চর্চা (জিএপি) অনুসরণে বাস্তবায়িত একটি প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন করে কৃষি কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সর্বশেষ তিনি ডিমলা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের মাঝে উঁচু-নিচু বেঞ্চ, ক্রিকেট ব্যাট-বল, ভলিবল, ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়াসামগ্রী এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করেন। এ সময় তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ডিজিটাল স্ক্রিন সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দেন।