বিশেষ প্রতিনিধি:
গুম হওয়ার প্রায় ৫ মাস পর খুলনায় মাটি খুঁড়ে মারুফ (৩৫) নামের এক ইজিবাইক চালকের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হত্যার পর তাকে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মুরাদ মোল্লা ও তার স্ত্রী ফাল্গুনী খাতুন।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হেলাল উদ্দিন কঙ্কাল উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,এই দম্পতির মধ্যে নিয়মিত কলহ লেগেই থাকত।
ঝগড়ার সময় একে অপরকে দোষারোপ করার পাশা-পাশি মাঝে মধ্যেই এক ইজিবাইক চালকের প্রসঙ্গ উঠে আসত,যা স্থানীয়দেরও নজরে আসে।
সর্বশেষ আজ সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও তুমুল বিবাদ শুরু হয়। একপর্যায়ে মুরাদ তার স্ত্রীকে মারধর করলে ফাল্গুনী ক্ষুব্ধ হয়ে ইজিবাইক চালক মারুফকে হত্যার বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে দেন।
​এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে দুজনকেই আটক করে।
পরে তাদের দেওয়া নিশানায় বাড়ির উঠানে মাটি খুঁড়ে দুপুর ৩টার দিকে বৃষ্টির মাঝেই মারুফের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
​হরিণটানা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদ হোসেন মিলন জানান,নিহত চালক মারুফ আসামিদের আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন।
গত রমজান মাসের কোনো এক রাতে তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে আনা হয়।
এরপর গাড়িতে বসা অবস্থায় পেছন থেকে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তারা।
রাতেই লাশটি উঠানে পুঁতে ফেলা হয় এবং ইজিবাইকটি খণ্ড খণ্ড করে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
​ওসি মোঃ হেলাল উদ্দিন আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা নিহতের নাম মারুফ এবং তার বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছর বলে জানিয়েছে।
নিহত ব্যক্তি শারীরিক প্রতিবন্ধী (পঙ্গু) ছিলেন।ধারণা করা হচ্ছে, ইজিবাইকটি আত্মসাৎ করতেই প্রায় ৫ মাস আগে তাকে হত্যা করে গুম করা হয়।
উদ্ধারের পর কঙ্কালটি ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হা’সপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় শনাক্তের পাশা-পাশি এই ঘটনায় যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।