নিজস্ব প্রতিবেদক।।
মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের তালতলা এলাকায় পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক নারীর ওপর সঙ্ঘবদ্ধ হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে সাংবাদিকদের কাছে এই নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দেন ভুক্তভোগী রাবেয়া বেগম (৪৫)। তিনি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতাল পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১১ জুলাই) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রাবেয়া বেগম জানান, প্রায় তিন বছর আগে মানবিক কারণে ফুহাদ (ফরহাদ) হাওলাদারকে ২ লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন পার হলেও সেই টাকা ফেরত না দেওয়ায় সম্প্রতি তিনি পাওনা টাকা দাবি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিবাদী পক্ষ তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে রাবেয়া বেগম মাদারীপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
থানা থেকে বাড়ি ফেরার পর অভিযুক্তরা আরও উগ্র হয়ে ওঠে এবং থানায় অভিযোগ করার অপরাধে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। ভয়ে তিনি নিজের ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান করছিলেন। থানায় অভিযোগ করার কারণে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে সেই রাতেই (১১ জুলাই) ২০-২৫ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাবেয়া বেগমের বাড়িতে চড়াও হয়। তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রাবেয়া বেগমকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। বাধা দিতে গেলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। একই সাথে হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র,দরজা ও জানালা ভেঙে তছনছ করে ফেলে।
আহতাবস্থায় রাবেয়া বেগম জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ এবং তার ছেলেকে ফোন করে সাহায্য চান। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এই ঘটনায় শাহীন হাওলাদার, ফুহাদ (ফরহাদ) হাওলাদার, রিফাত হাওলাদার, আলী হাওলাদার, সোহাগ হাওলাদার, শাহাদত হাওলাদার, সৈয়দ হাওলাদার, শাওন হাওলাদার, নাজমুল হাওলাদার এবং রবিন হাওলাদারসহ আরও ২০-২৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হাসপাতাল পুলিশের ইনসিডেন্ট রিপোর্ট এবং ভুক্তভোগীর দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।