বান্দরবানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাচিংপ্রু জেরীর বিপুল ভোটে জয়, উন্নয়নের নতুন প্রত্যাশা।

উশৈনু মারমা থানচি, বান্দরবান।
তাং: ১৩.০২.২০২৬ইং
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য জেলা বান্দরবান-৩০০ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী সাচিংপ্রু জেরি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলাপ্রশাসক শামীম আরা রিনি এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী এনসিপির সুজা উদ্দীনকে ১লক্ষ ১৫ হাজার ২৯৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।
এ সময় ঘোষিত ফলাফলে ধানের শীষের প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী এনসিপির সুজা উদ্দীন পেয়েছেন ২৬ হাজার ১৬২ ভোট।
এছাড়াও, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ৪ হাজার ৭১৮ ভোট এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ পেয়েছেন ২ হাজার ৪৩৫ ভোট।
অন্যদিকে, এই আসনে গণভোটে ‘না’ ভোট পড়েছে সবচেয়ে বেশি। গণভোটে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ৭১ হাজার ৪১৭ টি এবং না ভোট পড়েছে ৯০ হাজার ১৫৬ টি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জেলার শতাধিক কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল, স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং মোবাইল টিম মাঠে থাকায় কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ফলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোট সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ভোটের শুরুতে উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের আগমন বাড়তে দেখা যায়। নারী ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে অনেক ভোটারকে সকালেই কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেছে।
রাত পর্যন্ত চলা ভোট গণনা শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফলাফল প্রকাশের পরপরই বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনের ফলাফল ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় নতুন নেতৃত্ব কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এদিকে নির্বাচন শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বান্দরবানকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সচেতন মহল।