জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সরকারি রাস্তা বন্ধ,অবরুদ্ধ ১৬ পরিবার,প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
বিশেষ প্রতিনিধি:
একটি সচল রাস্তা, যা দীর্ঘ দুই শতাব্দী ধরে দুটি গ্রামের শত শত মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা। অথচ এক বিবেকহীন পরিবারের খামখেয়ালিপনা আর অন্যায় জেদের কারণে গত চার মাস ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে আছে ঐতিহাসিক এই পথটি। এর ফলে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ৭ নং কামরাবাদ ইউনিয়নের বীর বড় বাড়ীয়া গ্রামে সৃষ্টি হয়েছে এক চরম মানবিক সংকট। গ্রামের অন্তত ১৬টি পরিবার এখন নিজেদের ভিটেমাটিতেই কার্যত ‘অবরুদ্ধ’ জীবনযাপন করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাস্তাটি সরকারি রেকর্ডভুক্ত না হলেও যুগের পর যুগ ধরে দুই গ্রামের মানুষ এটি ব্যবহার করে আসছেন। এমনকি বর্তমান ডিজিটাল যুগে রাস্তাটি বৈশ্বিক মানচিত্র ‘গুগল ম্যাপেও’ (Google Maps) স্পষ্টভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে। কিন্তু এই জনগুরুত্বপূর্ণ পথটিই এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে একপক্ষের লোভের কারণে।
অভিযোগের তীর যাদের দিকে
অনুসন্ধানে জানা যায়, এলাকার প্রয়াত মোস্তান কাজীর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি জটিল রূপ নেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার স্ত্রী মনোয়ারা চৌধুরী এবং তার পাঁচ কন্যা এই ঐতিহাসিক রাস্তাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য গত দুই বছর ধরে নানা বেআইনি ও অমানবিক কৌশল অবলম্বন করছেন।
রাস্তাটি বন্ধ করতে একের পর এক যেসব প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে:
পাকা দেয়াল ও গেট নির্মাণ: রাস্তার মাঝখানে আড়াআড়িভাবে পাকা দেয়াল তুলে এবং গেট নির্মাণ করে তাতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গাছ ও মাটির স্তূপ: যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ করতে রাস্তার ওপর গাছ রোপণ করা হয়েছে এবং গাড়ি ভর্তি মাটি এনে স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, এই অন্যায়ের পেছনে ক্ষমতার পাশাপাশি প্রচ্ছন্ন মদদ রয়েছে কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের। টাকার লোভে পড়ে কয়েকজন বিবেকহীন স্থানীয় সাংবাদিক ও আইনজীবীও আড়াল থেকে এই পরিবারটিকে আইনি ও সামাজিক ঢাল জোগাচ্ছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
চরম দুর্ভোগে ১৬টি পরিবার
গত চার মাস ধরে রাস্তাটি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দুই গ্রামের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সরাসরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া ১৬টি পরিবার। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, শিশুদের স্কুলে যাওয়া কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার-সদাইয়ের জন্য এখন তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নিজ ভূমিতে পরবাসীর মতো বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন নারী ও শিশুরা।
গ্রামবাসীর দাবি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ
এই অমানবিক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে গ্রামবাসী ও স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ। তাদের স্পষ্ট দাবি—ব্যক্তিগত স্বার্থের কাছে শত বছরের জনস্বার্থ কখনোই হারতে পারে না। রাস্তার মাঝখানের সকল অবৈধ দেয়াল, গেট ও প্রতিবন্ধকতা অনতিবিলম্বে গুঁড়িয়ে দিতে হবে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এবং এলাকাবাসী এই চরম সংকট থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার জরুরি ও দৃষ্টান্তমূলক হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। একটি স্বাধীন দেশে ১৬টি পরিবার এভাবে অবরুদ্ধ থাকতে পারে না—প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপই এখন এই মানুষগুলোর একমাত্র ভরসা।


Leave a Reply