April 12, 2026, 9:47 pm
শিরোনাম :
সুন্দরবন ও উপকুলীয় এলাকায় কোস্টগার্ডের সাঁড়াশি অভিযান ইসলামপুর পৌরসভায় উন্নয়ন ব্যয় নিয়ে বিভ্রান্তি: সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের বিপরীতে দাপ্তরিক হিসাবের চিত্র কুমিল্লায় র‍্যাবের অভিযানে ২৬ কেজি গাজা উদ্বার। এক নারীসহ আটক-২ রঙিন আয়োজনে ফুল বিজুতে বৈসাবির সূচনা থানচির বলীপাড়ায় দীঘিনালায় ফুল অর্পণের মাধ্যমে শুরু বিঝু উৎসব। নরুন্দিতে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু। মানিকছড়িতে তিন বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনী পানছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ গোলা বারুদ উদ্ধার দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: ইসলামপুরে বন্ধ স্কুলের গভীর রাতে জ্বলছে ফ্যান-লাইট ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে টিন ও নগদ অর্থ বিতরণ

ইসলামপুর পৌরসভায় উন্নয়ন ব্যয় নিয়ে বিভ্রান্তি: সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের বিপরীতে দাপ্তরিক হিসাবের চিত্র

প্রতিবেদকের নাম
  • Update Time : Sunday, April 12, 2026
  • 1 সময় দেখুন

ইসলামপুর পৌরসভায় উন্নয়ন ব্যয় নিয়ে বিভ্রান্তি: সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের বিপরীতে দাপ্তরিক হিসাবের চিত্র

আলমাস হোসেন আওয়াল
ইসলামপুর প্রতিনিধি(জামালপুর)

জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে একটি স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যের সাথে দাপ্তরিক নথির ব্যাপক গরমিল পাওয়া গেছে। সংবাদটিতে ব্যয়ের যে অংক দাবি করা হয়েছে, প্রকৃত নথিতে তার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
​প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয়েছে, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ৬০ টাকার বাতি ৯১০ টাকা দরে কিনেছে এবং ৬৭০টি বাতি কেনায় ৬ লাখ ৯৭৫ টাকা খরচ দেখিয়েছে। কিন্তু প্রকৃত দাপ্তরিক হিসাব
অনুযায়ী, প্রতিটি ১৮ ওয়াটের এলইডি বাতির প্রকৃত মূল্য ধরা হয়েছে ৩৮০ টাকা। ৬৭০টি বাতির মোট দাম আসে ২,৫৪,৬০০ টাকা। অর্থাৎ, সংবাদে দাবিকৃত মূল্যের চেয়ে প্রকৃত নথির মূল্য প্রায় ৪ গুণ কম।
​দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের দাম বর্তমান বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ:
১১০০ মিটার তার কেনা হয়েছে, প্রতি মিটার ৬৮ টাকা দরে, যার মোট মূল্য ৭৩৭০০ টাকা।
২৬টি খুঁটি স্থাপনের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮০০০ টাকা (প্রতিটি ২২৩০ টাকা)।
২৬৮০ মিটার ক্যাবল এবং আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের জন্য ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০৫৩০ টাকা।
৭৫টি ইন্সুলেটরের জন্য ব্যয় হয়েছে ১১,২৮৭ টাকা।
​নথি অনুযায়ী, এই খাতের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬,০৯,৯৭৫ টাকা, যা সংবাদে প্রকাশিত ‘লুটপাটের’ অংকের তুলনায় অনেক কম।

​সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ১৯০ টাকার ব্লক ৩,৯০০ টাকায় কেনা হয়েছে এবং স্ল্যাব নির্মাণে ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, নির্মাণ সামগ্রীর বাজারমূল্য, পরিবহন এবং শ্রমিক মজুরি মিলিয়েই সরকারি প্রাক্কলন তৈরি করা হয়।
সংবাদ প্রতিবেদনে এই আনুষঙ্গিক খরচগুলো এড়িয়ে গিয়ে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট পণ্যের কাল্পনিক দামের ওপর ভিত্তি করে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
​পৌরসভা ও এলজিইডি  সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সকল কেনাকাটা এবং নির্মাণ কাজ সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করেই করা হয়েছে।
প্রতিটি খাতের হিসাব সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ আছে। তাদের দাবি, সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকৃত ভাউচার বা দাপ্তরিক নথির হিসাব যাচাই না করেই একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে
প্যাকেজের কাজ বাস্তবে করেছেন পৌরসভার কার্য সহকারী বুলবুল আহমেদ।
এ বিষয়ে পৌরসভার কার্য সহকারী বুলবুল আহমেদ জানান, আমার কাজ হলো কাজ তদারকি করা। আমার বা আমার নামে পৌরসভার কোন কাজে লাইসেন্স ব্যবহার করিনি।

এ বিষয়ে ইসলামপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, ‘কাজ সঠিকভাবে হয়েছে এবং কাজ দেখে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এখানে কাজে দূর্নীতি করার কোন সুযােগ নেই।
তিনি আরােও জানান, ইসলামপুর প্রেসক্লাবের সামনে স্লাবের যে কাজ করা হয়েছে তা দেখলেই বুঝা যাবে কাজ সঠিক হয়েছে কিনা। একটি মহল সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদটি ছাপিয়েছেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে  সঠিক তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশনের জন্য অনুরোধ জানান।
​বর্তমানে এই উন্নয়ন কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং তথ্যের বিভ্রান্তি দূর করতে যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD